শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

শিশুদের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে কাজ করছেন সেঁজুতি সাহা

বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনের লক্ষ্যে শিশুদের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটাতে কাজ করছেন অন্যতম বিশ্বসেরা তরুণ অণুজীব বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়ীকি ল্যানসেটের জরীপে তিনি ২০২২ সালে বিশ্বের সেরা দশ বিজ্ঞানীর মধ্যে একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
বাসসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে সেঁজুতি সাহা বলেন, আমরা চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন থেকে শিশুদের সঙ্গে অনেক কাজ করি। ২০২২ সাল থেকে ‘গড়বো বিজ্ঞানী, সাজাবো বাংলাদেশ’ নামে একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে শিশু। এর তিনটা ধারা আছে। একটা ধারা হচ্ছে- বিজ্ঞানকে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয় হচ্ছে-মানুষকে বিজ্ঞানের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং তৃতীয় হচ্ছে-স্কিল ডেভেলপমেন্ট।
তিনি বলেন, “প্রথম দুটো ধারা একদম স্কুলের বাচ্চাদের জন্য। এই কর্মসূচির আওতায় সাধারণত ঢাকার বাইরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বিজ্ঞান ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। সেখানে আবার মেয়ে শিশুদের প্রাধান্য বেশি। কারণ, মেয়েদের এক্সপোজারটা সবসময় কম হয়। আমরা সাথে একটা মাইক্রোসকোপ নিয়ে যাই। সাথে কিছু কালচার প্লেট নিয়ে যাই। কলা থেকে ডিএনএ এক্সট্রাক্ট করি। ওরা একটু দই নিয়ে আসে। দই এ একটু ব্যাকটেরিয়া দেখে। ওরা দেখে যে আমাদের আশেপাশে কত ব্যাকটেরিয়া ঘোরাঘুরি করছে, অণুজীবের পৃথিবীটা কত কালারফুল।”
এর মাধ্যমে বাচ্চাদের বোঝানো হয় যে, বিজ্ঞান খুবই সোজা। বিজ্ঞান মানে হচ্ছে প্রশ্ন করা। প্রশ্ন করে করে তথ্য সংগ্রহ করে নিজে নিজে উত্তর খুঁজে বের করা। বিজ্ঞান মানে একেবারেই মুখস্ত করা নয়। বিজ্ঞান কঠিন কিছুও না।
সেঁজুতি বলেন, আমরা গল্পের মাধ্যমে, কাজের মাধ্যমে এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন কিছু শিখি। ক্যাম্পগুলো করার পরে আমরা আবার আলোচনা পর্ব রাখি। যেখানে যে কোনো কেউ যেকোন প্রশ্ন করতে পারে। বিজ্ঞানী হয়ে আমরা উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি। অনেক ক্ষেত্রে আমরা বলি, জানি না। এটা বোঝানো যে বিজ্ঞান কঠিন কিছু না। সবাইকে বিজ্ঞানী হতে হবে এমন কিছুও না। সবাইকে হতে হবে বিজ্ঞান মনস্ক।
দ্বিতীয় ধারায়, যারা গবেষণা বা ল্যাবরেটরি দেখতে আগ্রহী হয়, তাদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। তারা ঢাকা ল্যাবে কাজ করা দেখে। অণুজীব বিজ্ঞানীরা তাদের দেখায় যে, ইনফেকটিভ ডিজিজ কিভাবে কাজ করে। ওরা তখন দেখে যে হয়তো বা ওদের গ্রাম থেকেই কেউ গবেষণাগারে এসে কাজ করছে। ওদেরই একজন বিজ্ঞানী হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, এসব দেখে ওরা অনুপ্রাণিত হবে। কেউ হয়তো বিজ্ঞানী হয়ে উঠবে, বিজ্ঞান মনস্ক হয়ে উঠবে।
তৃতীয় ধারায় আরেকটু বড়রা আসে। আন্ডার গ্রাজুয়েট হতে পারে। গ্রাজুয়েট হতে পারে। এসে তারা বিভিন্ন ধরনের স্কিল শেখে। যেমন: পিসিআর শিখলো কেউ। কেউ সিকোয়েন্সিং শিখলো বা কেউ ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি। এরকম কিছু প্রশিক্ষণও তাদের দেয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com